ঘি হলো এক ধরনের ক্লারিফায়েড বাটার, যা সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার রান্নায় ব্যবহৃত হয়। এটি বাটারকে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয়। বাটার গরম করার ফলে এর জলীয় অংশ এবং দুধের কঠিন পদার্থগুলো (milk solids) আলাদা হয়ে যায়। এরপর এই কঠিন পদার্থগুলো ফেলে দেওয়া হয়, আর বাকি যে পরিষ্কার ফ্যাট থাকে, সেটাই হলো ঘি। এর রঙ সাধারণত সোনালি হলুদ হয় এবং এর একটি স্বতন্ত্র, nutty সুগন্ধ থাকে।
বাটার এবং ঘিয়ের মধ্যে কিছু প্রধান পার্থক্য রয়েছে:
ফ্যাট ও পুষ্টি উপাদান: বাটারে প্রায় ৮০-৮২% ফ্যাট, ১৫-১৭% জল এবং ১-২% দুধের কঠিন পদার্থ থাকে। কিন্তু ঘি-তে ৯৯% এর বেশি ফ্যাট থাকে এবং প্রায় কোনো জল বা কঠিন পদার্থ থাকে না।
ল্যাকটোজ: বাটারের মধ্যে ল্যাকটোজ এবং ক্যাসিন (দুধের প্রোটিন) থাকে, যা অনেক মানুষের হজমে সমস্যা করে। যেহেতু ঘি থেকে এই উপাদানগুলো ছেঁকে বাদ দেওয়া হয়, তাই ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু (lactose intolerant) ব্যক্তিদের জন্য এটি বেশি উপযোগী।
স্মোকিং পয়েন্ট (Smoking Point): ঘিয়ের স্মোকিং পয়েন্ট অনেক বেশি, প্রায় ২৫০° সেলসিয়াস (৪৮২° ফারেনহাইট)। এর ফলে এটি উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য খুব ভালো। বাটারের স্মোকিং পয়েন্ট তুলনামূলকভাবে কম।
ঘি বিভিন্ন ধরনের খাবারে ব্যবহৃত হয়:
রান্না: এটি সবজি, মাংস এবং ডাল ভাজার জন্য একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।
বেকিং: অনেক মিষ্টি এবং বিস্কুট তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়।
সরাসরি ব্যবহার: রুটি বা পরোটার সাথে সরাসরি খাওয়া যায়। এটি খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুসারে, ঘিয়ের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন A, E এবং K থাকে। তবে এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
of 0 reviews